#অ্যাথানাসিয়া পর্ব ৩
পর্ব ৩
-----
সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে নিঃশব্দ পায়ে। পশ্চিমাকাশে রক্তিম সূর্যটি নিভে যায় দিনের শেষ নিঃশ্বাসে। আকাশে জ্বলে ওঠে একে একে জোনাকির মতো তারা। রাজপ্রাসাদের চারদিকে ছায়া ঘনিয়ে এলে, ক্যাসলের অভ্যন্তরে নেমে আসে এক বিষণ্ন নীরবতা।
আজ সারাদিনই অ্যাথানাসিয়া একাকী নিজ কক্ষে কাটিয়েছে। বাইরের বিশ্ব তার কাছে যেন অস্পৃশ্য, অবরুদ্ধ এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডোরাথস, তার পুত্র এবং স্ত্রী—সকলেই কফিন থেকে জেগে ইতোমধ্যে ফিরে এসেছেন ক্যাসলে। অন্ধকার তাদের আত্মায় প্রাণ ফুঁকে দিয়েছে নতুন দিনের মতো।
নীরবতা ভেঙে, ধীর পায়ে দরজা খুলে অ্যাথানাসিয়া বেরিয়ে আসে করিডোরে। পাথরের ধাপে ধাপে তার নূপুরের শব্দ আকাশের অনুরণন জাগিয়ে তোলে। বসার ঘরে প্রবেশ করতেই দেখে, রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীণ সভায় ডোরাথস এবং তার সন্তানরা গভীর কোনো আলোচনায় নিমগ্ন।
কিন্তু অ্যাথানাসিয়া থামে না। পায়ে পায়ে অগ্রসর হয় এবং সহসা বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়—দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, কণ্ঠ নির্লিপ্ত অথচ দৃঢ়।
“বাবা, কামরায় আসুন। আপনার সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলাপ আছে,”সে বলে, মুখে হালকা হাসির ছায়া রেখে, যেন কারো মনে কোনো সন্দেহ না জাগে।
আন্দ্রেয়াস,যে বোনকে ছোট থেকেই চেনে তার প্রতিটি অভিব্যক্তিতে, আঁচ করে—বিষয়টি গুরুতর।
“কি হয়েছে অ্যাথানাসিয়া? এমন কী কথা, যা তুই সবার সামনেই বলতে পারবি না?”—কণ্ঠে প্রগাঢ়তা।
অ্যাথানাসিয়া সপ্রশান্ত ভঙ্গিতে বলে, “না আন্দ্রেভাই, তেমন কিছু নয়...”
কিন্তু এমিলিয়াস ততক্ষণে বিরক্ত কণ্ঠে বলে ওঠে,
“তেমন কিছু না হলে, তুই বাবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এমন ব্যাঘাত ঘটাতিস না।”
এবার অ্যাথানাসিয়ার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। কণ্ঠে রাগের সুর, চোখে বিদ্যুৎ,“বাবা, আপনি কি যাবেন আমার সঙ্গে? না আমি এখান থেকে প্রস্থান করবো।”
ডোরাথস কিছু না বলে নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ান। বুঝতে পারেন, বিষয়টি অবহেলা করার নয়।
---
ডোরাথসের কামরায়......
চন্দনের গন্ধমাখা সেই প্রশস্ত কক্ষ, যেখান থেকে শতাব্দীর নীতিনির্ধারণ হয়—আজ সেখানে জমেছে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ছায়া।
ডোরাথস গম্ভীর কণ্ঠে বলেন, “বলো অ্যাথানাসিয়া, এমন কী ঘটেছে, যে তুমি আমাকে সবাইকে রেখে এখানে ডেকে এনেছো?”
অ্যাথানাসিয়া এক নিঃশ্বাসে সব বলে ফেলে।
“বাবা, আপনার ওই নবনির্বাচিত মহারাজ আজ আমাকে দুর্গের বাইরে যেতে দেননি। আমার স্বাধীনতায় কেন হস্তক্ষেপ করবেন তিনি? তাকে রাজ্যের দায়িত্ব দিয়েছেন আপনি, আমার জীবন নিয়ন্ত্রণের অধিকার নয়।”
ডোরাথস কিছু না বলে দ্বাররক্ষীকে ডেকে পাঠান।
“প্রহরী, জর্জিওসকে এক্ষুনি এখানে নিয়ে এসো,”—আদেশ ভেসে যায় ধাতব কণ্ঠে।
কিছুক্ষণ পর, জর্জিওস এসে হাজির। দৃঢ় অথচ স্বাভাবিক, অভিব্যক্তিতে কোনো ক্লান্তি নেই।
“বাবা, আমাকে ডেকেছেন?”
ডোরাথস জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কি অ্যাথানাসিয়াকে জোর করে দুর্গে আটকে রেখেছিলে?”
জর্জিওস মাথা উঁচু করে বলে, “হ্যাঁ, বাবা। কারণ ছিল। ও আমার আদেশ অমান্য করেছিল। সুর্যের আলোয় আমাদের জাতি নিঃশেষ হয়। আপনি নিজেই ঘোষণা করেছেন অ্যাথানাসিয়া ভবিষ্যতের মহারানী। এই ঘোষণা যেমন প্রাসাদে পৌঁছেছে, তেমনি শত্রুদের কানেও। ওর জীবন এখন বিপন্ন। আমি শুধু তার নিরাপত্তার জন্যই বাধা দিয়েছি।”
ডোরাথস কিছুটা বিস্মিত। ভুলে গিয়েছিলেন এই দায়িত্ব আর বিপদের ভার। এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কণ্ঠে কঠোরতা এনে,
“তুমি আর আগের মতো একা কোথাও যাবে না, অ্যাথানাসিয়া। সন্ধ্যায় বেরোতে হলে দেহরক্ষী থাকবে, দিনের বেলায় জর্জিওস তোমার সঙ্গে যাবে। এটা আমার শেষ কথা।”
অ্যাথানাসিয়া কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। চোখে হতাশার ছায়া। তারপর নিঃশব্দে চলে যায় কামরা ছেড়ে।
ডোরাথস এক দীর্ঘ প্রশান্ত শ্বাস ফেলে। জর্জিওসের দিকে তাকিয়ে, “তোমার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে, পুত্র।”
জর্জিওস মাথা নোয়ায়, হালকা হেসে, রাজকীয় ভঙ্গিতে প্রস্থান করে।
.
.
.
.
সকাল পেরিয়ে দুপুর। আকাশে সূর্যের তেজ এখন প্রখর।
দুর্গের নিচে অজানা রাজ্যে, পাহাড়ের গহিনে, সব ভ্যাম্পায়াররা শুয়ে কফিনে। দুর্গে কেবল রয়ে গেছে অ্যাথানাসিয়া, জর্জিওস এবং মানব প্রহরীরা।
আজ মুক্ত আকাশের নিচে একটু হাওয়া খেতে চায় অ্যাথানাসিয়া। ডোরাথোসের আদেশ অনুযায়ী, জর্জিওসকে সঙ্গে নিয়েই বেরোতে হবে।
কালো শার্ট, নীল প্যান্ট পরে তৈরি হয় সে। সুগন্ধি মেখে পৌঁছে যায় জর্জিওসের কামরার সামনে। দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে ভেসে আসে সম্মতির শব্দ।
অ্যাথানাসিয়া ধীর পায়ে প্রবেশ করে। জর্জিওস টেবিলে বসে কিছু কাগজপত্রে চোখ রাখছে, তাকে দেখে না, তবুও মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে—
“বলো, কী চাই?”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে অ্যাথানাসিয়া নিচু স্বরে বলে,
“আজ একটু বাইরে যাবো ভাবছি। দেহরক্ষী যাবে, না আপনি?”
জর্জিওস এবার চোখ তুলে তাকায়, গম্ভীরভাবে বলে,
“আমার কাজ আছে। দেহরক্ষীরা অন্য কাজে ব্যস্ত। তুমি রুমে ফিরে যাও, পরে নিয়ে যাবো।”
রাগ চেপে রাখতে না পেরে অ্যাথানাসিয়া বলে ওঠে,
“ঠিক আছে। না গেলেই হচ্ছে। বাবা বলেছিলেন তাই এসেছিলাম। আমি একাই যাচ্ছি।”
এই বলে ঘুরে দাঁড়াতেই…
হঠাৎ করেই জর্জিওস সামনে এসে দাঁড়ায়। অ্যাথানাসিয়া চমকে যায়। নিজেকে সামলে নেয় দ্রুত।
জর্জিওস একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে, বিরক্ত ভঙ্গিতে বলে,
“ঠিক আছে, নিচে গিয়ে দাঁড়াও। আমি আসছি।”
অ্যাথানাসিয়া কিছু না বলেই বেরিয়ে যায়।
জর্জিওস মনে মনে বিড়বিড় করে,
“মেয়েটা বড্ড বেয়াদব, কারও কথা শোনে না।”
বাগানে এসে অ্যাথানাসিয়া ফিলিপকে কিছুক্ষণ আদর করে। এরপর তার বাঁধন খুলে তাকে বাইরে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর জর্জিওসও পৌঁছে যায়—সঙ্গে একটি সাদা ঘোড়া।
ঘোড়াটিকে দেখে অবাক অ্যাথানাসিয়া। বুঝতে পেরে জর্জিওস বলে ওঠে,
“এটা ডেল্ফী। এথেন্সে ছিল, কাল এনেছি।”
এই বলে সে ঘোড়ায় চড়ে বসে। অ্যাথানাসিয়াও আর দেরি না করে ফিলিপের পিঠে চড়ে বসে। দুটো ঘোড়া ছুটে চলে একসাথে, মুক্ত আকাশের নিচে, অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে।
দুজনের ঘোড়াই দ্রুতগতিতে ছুটতে লাগল। হঠাৎ মাঝপথে জর্জিওস নিজের ঘোড়াটিকে থামিয়ে দিল। অ্যাথানাসিয়া কিছুটা সামনে গিয়েই ঘোড়া থামিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল।
– কী হলো? মাঝপথে ঘোড়া থামালেন কেন?
জর্জিওস কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি টেনে বলল,
– তুমি তো বলেছিলে, তুমি সবকিছুতে পারদর্শী। তাহলে চলো, একটা প্রতিযোগিতা হোক—যার ঘোড়া আগে ওই সমুদ্রের ধারে পৌঁছাবে, সেই হবে বিজয়ী।
– আমি ঘুরতে বেরিয়েছি, নিজেকে প্রমাণ করতে নয়, – শান্ত কণ্ঠে বলে অ্যাথানাসিয়া।
– তুমি ভালো করেই জানো, আমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোনোদিন জিততে পারবে না। তাই ময়দানে নামার আগেই ভয় পেয়ে গেলে, – ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে জর্জিওস।
অ্যাথানাসিয়ার চোখে রাগের ঝিলিক জ্বলে ওঠে।
– বারবার মানুষ বলে আমাকে তাচ্ছিল্য করেন! ঠিক আছে, হোক প্রতিযোগিতা। আজ আপনাকেও দেখিয়ে দেব—একজন শক্তিশালী ভ্যাম্পায়ারকেও আমি হারাতে পারি।
বলেই সে ঘোড়া পেছনে এনে জর্জিওসের ঘোড়ার সমান্তরালে দাঁড় করায়। দুজন একে অপরের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। পরক্ষণেই দুজনেই ঘোড়ার লাগাম টানতেই উড়ে চলে দুই ঘোড়া।
কিছুদূর আসার পর জর্জিওস পেছনে ফিরে তাকায়। অ্যাথানাসিয়া অনেকটাই পিছিয়ে আছে।
অ্যাথানাসিয়া চোখ শক্ত করে, মনঃসংযোগ করে নিচু স্বরে বলে,
– ফিলিপ, আমাকে জিততেই হবে। অ্যাথানাসিয়া কোনোদিন হারে না।
বলেই সে ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে, ফিলিপ যেন আগুনের গতিতে ছুটে চলে।
হঠাৎ করেই অ্যাথানাসিয়া ঝড়ের গতিতে জর্জিওসের ঘোড়ার সামনে দিয়ে ছুটে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে পৌঁছে যায় সমুদ্রের ধারে।
জর্জিওস ঘোড়া থামিয়ে নেমে পড়ে, অ্যাথানাসিয়াও ফিলিপ থেকে নেমে তার সামনে এসে দাঁড়ায়।
– বলেছিলাম না, সাধারণ মানবী ভেবে আমাকে অমর্যাদা করবেন না। আমার আত্মবিশ্বাস আর মনোবল আমাকে বিজয় এনে দিয়েছে, – গর্বিত কণ্ঠে বলে অ্যাথানাসিয়া।
জর্জিওস কণ্ঠে সামান্য গাম্ভীর্য এনে বলে,
– আমি আমার ভ্যাম্পায়ার শক্তি ব্যবহার করিনি, সেই কারণেই তুমি জিতেছো। ভুলেই গিয়েছিলাম, লড়াই করতে হয় সমানে সমানে।
অ্যাথানাসিয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
জর্জিওস হঠাৎ মৃদু কণ্ঠে প্রশ্ন ছোঁড়ে,
– আমরা এখানে এসেছি কেন?
অ্যাথানাসিয়া নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক স্বরে বলে,
– আমি সমুদ্র দেখতে এসেছি। আমি সমুদ্রের ধারে সময় কাটাতে ভালোবাসি।
জর্জিওস ঠান্ডা গলায় বলে,
– তাহলে কাটাও সময়।
অ্যাথানাসিয়া আকাশের দিকে তাকায়। চোখেমুখে এক ধরনের বিরক্তি জমে ওঠে।
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থাতেই বলে,
– আজ সূর্যের উত্তাপ যেন একটু বেশিই। প্রচণ্ড গরম লাগছে। আমি সমুদ্রের পানিতে নামবো।
জর্জিওস কোনো উত্তর দেয় না। নীরব থাকে।
অ্যাথানাসিয়া নিজের ঘোড়া ফিলিপকে কাছের একটা বাঁশের সঙ্গে বেঁধে দেয়। তারপর নিজের পা থেকে জুতো খুলে এক দৌড়ে ছুটে যায় সমুদ্রের কাছে। ধীরে ধীরে এক পা, এক পা করে পানিতে নামতে থাকে।
ওদিকে জর্জিওস নিজের ঘোড়ার সামনে এসে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। চারদিকের শান্ত প্রকৃতি সে পর্যবেক্ষণ করে ঠিকই, কিন্তু তার হৃদয়ে নেই কোনো অনুভূতি—প্রকৃতি তার ভেতরে কোনো আবেগ জাগায় না। মনোহর এই পরিবেশ তার মনে কোনো রেখাপাত করে না।
অ্যাথানাসিয়া একের পর এক পানিতে ডুব দেয়। তারপর কোমর পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে দুই হাত মেলে নিজের মতো পানির সাথে খেলা করে। একা একাই হাসে, একা একাই পানির ছিটা ছিটায় চারপাশে।
একজোড়া চোখ নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে—অ্যাথানাসিয়ার শিশুসুলভ আনন্দে মুগ্ধ হয়ে।
জর্জিওসের চোখ এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ থেমে যায় সমুদ্রের জলের দিকে। সেখানেই চোখ আটকে যায়।
তার সামনে, সেই কিশোরীর মতো উচ্ছ্বাসে ভেজা অ্যাথানাসিয়া। শরীর ভিজে আছে পুরোপুরি। কালো শার্টটা ভিজে গিয়ে শরীরে লেপ্টে আছে। ভেজা চুলগুলো কপালে সেঁটে আছে। জলবিন্দুগুলো তার ত্বকে সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করছে।
সেই ঝিকঝিকে রূপের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে জর্জিওসের একোয়া রঙের চোখজোড়া।
এক মুহূর্তে তার হৃদপিণ্ড থেমে যায়। পরমুহূর্তে ধুকপুক করে ওঠে প্রবলভাবে। শরীর কাঁপতে থাকে হালকা করে। মনের ভেতর অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
তবুও চোখজোড়া শান্ত, গভীর। তাকিয়ে থাকে। যেন সময় থেমে গেছে।
হঠাৎ সে নিজেকে টেনে তোলে সেই ঘোর থেকে। চোখ সরিয়ে নেয়। উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছিল না, তাই হঠাৎ করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বুকের ভেতর একধরনের অস্থিরতা জন্ম নিয়েছে, এমন কিছু যা আগে কখনো অনুভব করেনি সে।
জর্জিওস নিজের কপালটা আঙুল দিয়ে চেপে ধরে।
"এই মেয়েটা... এর হাসিটা কেন এত অস্থির করে তোলে আমাকে? আমি তো..."
– না... না, এ ঘোর অন্যায়, মহাপাপ! আমি এমনভাবে অ্যাথানার দিকে তাকাতে পারি না। নিজের সংযম হারানো চলবে না।আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
চোখ মুখ কুঁচকে শক্ত করে বন্ধ করে ফেলে জর্জিওস।
চলবে......... I Miss You Jaaaaaaaaaaaan 😭😭

Comments
Post a Comment